
ঢাকা, ২১ এপ্রিল ২০১৪ (বাসস) : স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) ও মিটফোর্ড হাসপাতালে সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনার সাথে জড়িত ডাক্তারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে সেখানকার নেতৃবৃন্দকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্তে যারা দোষী হবেন বা এই ঘটনার সাথে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আজ সোমবার বিকেলে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসা যন্ত্রপাতি হস্তান্তর শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, কথায় কথায় অহেতুক ধর্মঘট ডাকবেন না। ধর্মঘট ডাকলে একজন রোগী মারা গেলে দায়িত্ব নেবে কে? সত্যিকার অর্থে যদি আপনি একজন চিকিৎসক হন, তাহলে ধর্মঘট করবেন না। আমি ধর্মঘট সমর্থন করি না।
এ সময়ে তিনি এই ধরনের দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সেজন্য সবাইকে অনুরোধ জানান।
এর আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতাল মিলনায়তনে চিকিৎসা যন্ত্রপাতি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালের পরিচালক আবু মুসা মোহাম্মদ ফাকরুল হকের সভাপতিত্বে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জমান খান কামাল, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. দীন মো. নুরুল হক প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী বলেন, চিকিৎসক সংকট সমাধানের লক্ষ্যে আগামী বছরে সাড়ে ৬ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ করা হবে।
তিনি বলেন, আমাদের চাহিদা আসলে অনেক, কিন্তু সম্পদ সীমিত। তাই এই সীমিত সম্পদ নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।
হাসপাতালের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, হাসপাতালের উন্নয়ন অবশ্যই করব, কিন্তু কোনো দুর্নীতি সহ্য করব না। কেউ দুর্নীতি করলে আমি অ্যাকশন নেব। কেউ তদবির করবেন না। তদবির করলে সব সুবিধা বন্ধ করে দেব।
হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহবান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালের সামনে কোনো দোকানপাট বসতে দেওয়া যাবে না। সবাই নিজের বাড়ির আঙ্গিনা যেমন পরিস্কার রাখেন তেমনি হাসপাতালের আঙ্গিনাও পরিস্কার রাখবেন। এর জন্য তো টাকা লাগে না। ইচ্ছা শক্তিই যথেষ্ট।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরে বিএনপি-জামায়াতের নৈরাজ্য মোকাবেলায় পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে নাসিম বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে নৈরাজ্য হয়েছে তা পৃথিবীর কোন দেশে হয়নি। তাদের আন্দোলনের প্রথম টার্গেট ছিল আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। যা অতীতের কোন সময়ে আমরা দেখিনি।
তিনি বলেন, পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির সেদিনের সাহসী ভুমিকার কারণেই আজ দেশে গণতন্ত্র বিরাজ করছে। একটা গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় এসেছে। সংসদ চলছে।
এ সময়ে মন্ত্রী রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা যন্ত্রপাতির বিতরণ করেন।
|